পত্রিকা: 'মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচ মুখ'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

শনিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার পাতাজুড়ে নয়া রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথগ্রহণ; মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত হওয়া ও রদবদলের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া, ভারতে তারেক রহমানের 'সম্ভাব্য' সফর ইস্যু এবং দেশে গ্যাস সংকট থাকলেও পোষাক খাতের ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেয়নি; এমন খবরও রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— 5 new faces in cabinet; অর্থাৎ মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচ মুখ।

এই খবরে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল শুক্রবার তার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেছেন।

এবার মন্ত্রিপরিষদে পাঁচজন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী; বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বিএনপির সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রাশিদুজ্জামান মিল্লাতকে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। আর এই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনরত আফরোজা খানম রিটা পেয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সামলানোর ভার।

অন্যদিকে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের খবর অনুযায়ী, বর্তমান বিএনপি সরকারের শুরুতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া, বিএনপির সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক মিনিট পরই বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। পরে রাত ১টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দপ্তর বণ্টনের গেজেট প্রকাশ করে।

এই খবরে বলা হয়েছে, নতুন করে আরও পাঁচজন যুক্ত হওয়ায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে।

দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা। অবশ্য এই ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৫৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া, মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীর সংখ্যা এখন ১২ জন। অতীতে কোনো সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় এত উপদেষ্টা ছিলেন না।

আর সর্বোচ্চ ৬১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার দ্বিতীয় দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায়। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পান ৬০ জন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে কয়েকবার বলেছিল ছোট আকারের কার্যকর সরকার গঠন করবে। এখন আর তা দেখা যাচ্ছে না। সরকার যত ছোট হবে, কাজ তত ভালো। অতীতে যখনই বড় আকারের সরকার ছিল, বিশৃঙ্খলা তত বেশি ছিল।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম— মির্জা ফখরুলের নতুন অধ্যায়

এই খবরে বলা হয়েছে, বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে গতকাল শুক্রবার শপথ নিয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবার তার নতুন অধ্যায় শুরু হলো বঙ্গভবনের বাসিন্দা হিসেবে।

বঙ্গভবনের দরবার হলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা মির্জা ফখরুল।

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পরে রাষ্ট্রপতি পদে এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ভোট পান ২৫৫টি।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের বাক্সে পড়ে ৮৮ ভোট।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— BNP cools on expanding presidential powers; অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ কম বিএনপির।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপি অঙ্গীকার করলেও এখন তারা কোন পথে হাঁটবে তা স্পষ্ট নয়।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফেরার পর থেকে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করতে হয়।

তবে সংবিধানের ধারাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ায় এ নিয়ে সমালোচনা আছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়ে আলোচনা হয় জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে। সেখানে বিএনপির প্রতিনিধি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনের কথা বলেছিলেন।

তবে সেটি সুনির্দিষ্ট নয়। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে কিছু বলা নেই। তাদের ৩১ দফাতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথাই কেবল বলা আছে।

এদিকে, সংবিধান সংশোধনে বিএনপি যে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, তাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট অংশ নেয়নি। বিরোধীদের অংশগ্রহণ ছাড়াই বিশেষ কমিটির যে সভা হয়েছে, সেখানে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

এ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। আর তারা সবাই বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো সুযোগ তারা দেখেন না।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান সংবাদ— Apparel buyers stay with Bangladesh despite gas; অর্থাৎ গ্যাস সংকট থাকলেও বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা আপাতত অব্যাহত রাখছেন পোশাক ক্রেতারা।

খবরটিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা যাবে কি না— এমন উদ্বেগ থাকলেও বিশ্বজুড়ে পোশাক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে তাদের ক্রয়াদেশ (অর্ডার) বহাল রেখেছেন। আপাতত ক্রয়াদেশগুলো ঠিকঠাক মতো থাকলেও উৎপাদকের খরচ ক্রমশ বাড়ছে।

শীর্ষপর্যায়ের চারটি আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে থেকে তাদের কোম্পানির ক্রয়াদেশ কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই; বরং একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাদের ক্রয়াদেশ কিছুটা বেড়েছে।

ক্রেতারা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাগুলোর হিমশিম খাওয়া এবং উৎপাদন সচল রাখতে ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করা সত্ত্বেও কোনো সরবরাহকারীই পণ্য চালানে (শিপমেন্ট) বিলম্ব করেনি।

'পুমা'র ঢাকা অফিসের প্রধান মঈন চৌধুরী জানান, রপ্তানিকারকরা খরচ বৃদ্ধির কারণে চাপের মুখে থাকলেও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছেন।

'আমাদের ক্রয়াদেশ কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই'— যোগ করেন তিনি।

দৈনিকটি ছয়জন রপ্তানিকারকের সাথেও কথা বলেছেন এবং একজন ছাড়া কেউই রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার কথা জানাননি।

তবে একটি টেক্সটাইল মিল জানিয়েছে, ক্রেতা থাকা সত্ত্বেও তারা নতুন ক্রয়াদেশ নেওয়া কমিয়েছে; কারণ গ্যাস সংকটের কারণে তারা পর্যাপ্ত উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারছে না।

প্রথম আলোর প্রধান সংবাদ— সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: বিরোধী দলকে সভাপতি পদ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

খবরটিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক ১১টি এবং মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি আছে ৩৯টি। এখন পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ১৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। আগামী অধিবেশনে বাকি ৩৫টি কমিটি গঠন করার কথা।

জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদে এই ৫০টি কমিটির মধ্যে বিরোধী দল ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা। তারা আশাও করেছিলেন সে রকম।

তবে বাকি কমিটির আর কোনোটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে সরকারি ও বিরোধী দলের সূত্র জানিয়েছে। অতীতের রীতি অনুযায়ী কমিটি গঠন করতে চায় সরকারি দল।

সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল প্রতিনিধি না দেওয়ায় জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

জাতীয় সংসদের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ দুটো ক্ষেত্রেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংসদীয় কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা, অনিয়ম ও গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া বা সুপারিশ করাও সংসদীয় কমিটির কাজ।

এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অথবা সম্ভব হলে তার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে চেষ্টা ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় সরকারের মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রসঙ্গ তুলছেন।

এর বাইরে ভারতীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রিকস সম্মেলনের সময় অথবা সম্ভব হলে আরও আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরটি নিশ্চিত করার জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গতকাল শুক্রবার বলেছেন, 'সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর ঘিরে গতকাল একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যে তা তড়িঘড়ি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।

গতকাল দুপুরে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর কর্মসূচির পূর্ণ মহড়ার জন্য (আজ) শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে গার্ড পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা হবে না।'

নিউ এইজের প্রথম পাতার খবর— Timely textbook distribution uncertain; অর্থাৎ সময়মতো পাঠ্যপুস্তক বিতরণে অনিশ্চিয়তা।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই সকল শিক্ষার্থীকে নতুন পাঠ্যপুস্তক দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কারণ, মুদ্রণের কাজ এখনো শুরু হয়নি, অথচ মাঠ পর্যায়ে বই বিতরণের শেষ তারিখের আর প্রায় ১০০ দিন বাকি।

দরপত্র (টেণ্ডার) কার্যক্রম এখনো শেষ না হওয়া এবং কিছু টেন্ডার পুনরায় জারি করতে হবে, এজন্যই এখনো রয়ে গেছে অনিশ্চিয়তা। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বই ছাপানোর জন্য পাঠানোর আগে ওয়ার্ক অর্ডার জারি করতে হয়, যাতে প্রায় ৭০ দিন সময় লাগে।

জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে বই পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩০ নভেম্বরের সময়সীমার মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার মতো যথেষ্ট সময় নেই।

কিছু বইয়ের পাণ্ডুলিপিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।

২০২৭ সালের জন্য আনুমানিক এক হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কোটি ৬২ লাখ পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর পরিকল্পনা করেছে এনসিটিবি। যার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ৫৭ লাখ ৩১ হাজার, প্রাথমিকের জন্য ৭ কোটি ৯৪ লাখ এবং মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী ও দাখিল শিক্ষার্থীদের জন্য ২২ কোটি ১০ লাখ বই।

বিএনপিতে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে— কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার সংবাদ এটি।

এতে বলা হয়েছে, দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়াতে চাইছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দল পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও অল্প সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন হবে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

দলটির সূত্র বলছে, তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর এখন দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সংগঠনকে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।

একই সঙ্গে তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ পূরণ, নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা কাটানো এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এছাড়া, আগামী ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে এক দশক পর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলের হাইকমান্ড।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— ইউরোপ-যাত্রায় ৯ রুটে প্রাণ গেছে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশীর। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালে অবৈধ পথে যাত্রায় প্রাণ গেছে তাদের।

এই খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) 'মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট'-এর গ্লোবাল ডেটাবেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের নয়টি অনিয়মিত অভিবাসনপথে ঘটে যাওয়া ৮৪টি পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩২৯ বাংলাদেশি মারা গেছেন এবং আরো ৮৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

অর্থাৎ গত এক দশকে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশির কোনো না কোনোভাবে মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এ মৃত্যুর মানচিত্রে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পথটি ভূমধ্যসাগর। লিবিয়া বা তিউনিসিয়া থেকে এ সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছার চেষ্টায় ১ হাজার ১৭১ বাংলাদেশি মারা গেছেন এবং নিখোঁজ হয়েছেন ৭৭৩ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যু ও নিখোঁজের প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে শুধু এ রুটে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এ সংখ্যা প্রকৃত চিত্রের চেয়ে কম। কারণ সমুদ্রপথে অনেক নৌযান নিখোঁজ হলেও যাত্রী বা মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।