ডিলারের গুদাম ভেঙ্গে সার নিলেন কৃষকরা, 'মব সৃষ্টির' অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তার, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম বলছে পুলিশ
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে একজন সার ডিলারের গুদাম ভেঙ্গে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকরা। এই ঘটনায় জিডি করেছে পুলিশ।
রোববার ওই উপজেলার দুই নম্বর ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে।
তবে, ওই ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল জব্বার।
ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে এমন প্রশ্নে উপজেলা কৃষি অফিসার ও পুলিশ দুইজন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
ইউরিয়া সারের কোন সঙ্কট নেই, কৃষি কর্মকর্তা মি. জব্বার এমন দাবি করলেও সেটি নাকচ করে দেন ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন।
ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি মি. উদ্দিন দাবি করেন, চাহিদার চেয়ে অনেক কম ছিল সার।
মি. উদ্দিন বলেন, “আমার দুই নম্বর ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে আজকে সার দেয়ার কথা ছিল, ওরা প্রস্তুতি নিছে। ওই এলাকাটা নদী এলাকা, এই এলাকাটাতে যথেষ্ট সারের চাহিদা রয়েছে।”
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যে পরিমাণ সার রোববার বিতরণ করার কথা ছিল তার চাইতে চারগুণ বেশি কৃষক পৌঁছেছিল সেখানে।
“কৃষক মনে করছে, কে পাবে, কে পাবে না, যখন বিতরণের জন্য দরজা খুলছে, ব্যস যে যার মতো হুড়োহুড়ি করে ঢুকে নিয়ে নিছে” বলেন ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি মি. উদ্দিন।
“চাহিদা ছিল চার হাজার বস্তা, সরবরাহ হলো এক হাজার ৩২০ বস্তা(৫০ কেজির বস্তা)। প্রায় ওয়ান ফোর্থ প্রায়” বলেন ওসি আজিম উদ্দিন।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলার এখন পর্যন্ত কোন মামলা করেনি তবে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি দায়ের করেছে।
অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের দাবি, তার দায়িত্বে থাকা এই ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের কোন সংকট ছিল না বরং ‘মব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে’ এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
“ইউরিয়া সারের সংকট নেই কোন। ওই ইউনিয়নে ৬৮ মেট্রিক টন বরাদ্দ ছিল। নিয়মিত উত্তোলন হচ্ছে, বিতরণ হচ্ছে সরকারি মূল্যে। সর্বশেষ উত্তোলন ছিল ১৭ মেট্রিক টন মানে ৩৪০ বস্তা, আজকে আমাদের বিতরণের প্ল্যান ছিল” বলেন কৃষি কর্মকর্তা।
তবে, এরকম বিশৃঙ্খলা হবে তা আগে থেকে আশঙ্কা করে সেখানে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কিন্তু যে পরিমাণ সার বিতরণ করার কথা ছিল তার থেকে অনেক বেশি প্রায় সাতশো থেকে আটশো কৃষক ছিল বলে জানান তিনি।
মি. জব্বার বলেন, “ওদের টার্গেট একচুয়েলি কী আমি বুঝতেছি না যে মব করার টার্গেট কী না, নাহলে তো এতোগুলা লোক থাকার কথা না। কারণ অলরেডি ৫০ মেট্রিক টন সার নিয়ে আসছে এবং বিতরণ করছি। একটা পর্যায়ে তারা গুদাম ভেঙ্গে সার নিয়ে গেছে।”
সারের সংকট না থাকলে কেন আগে থেকেই বিশৃঙ্খলার শঙ্কা করা হয়েছে ও কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগের প্রশ্নে এই কৃষি কর্মকর্তা দাবি করেন, সারের কোন সংকট নেই।
“এখানে অনেকেই আছে যে, কৃষকরা তিন মাস পরে যে সার ব্যবহার করবেন সেটিও আগেই নিয়ে সংরক্ষণ করে রেখে দেন” বলেন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।