ইরানে সবচেয়ে ভালো বিষয় হতে পারে সরকার পরিবর্তন, বললেন ট্রাম্প

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters/ EPA

ছবির ক্যাপশান, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন ইরানে সরকার পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো বিষয় হতে পারে। এই বক্তব্যকে দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে তার পরিষ্কার সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

"৪৭ বছর ধরে তারা কথা বলেই যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা বহু প্রাণ হারিয়েছি," শুক্রবার বলেছেন মি. ট্রাম্প।

তবে ইরানের নেতৃত্বে তিনি কাকে দেখতে চান সেটি তিনি স্পষ্ট করে বলেননি। তবে বলেছেন "সেখানে অনেকেই আছে যারা দায়িত্ব নিতে পারেন"।

ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখনো ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

এদিকে, পারমাণবিক চুক্তির জন্য ইরানের ওপর চাপ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী দ্যা ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে

নিজের সামাজিক মাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথ- এ তিনি রণতরীটির আকাশ থেকে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে এটি মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে, যেখানে আগে থেকেই আরেকটি মার্কিন রণতরী ইউএস আব্রাহাম লিংকন রয়েছে।

পেন্টাগন জানুয়ারিতে এই রণতরীটি সেখানে পাঠিয়েছিল। ওই সময় ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে সরকারি অভিযানের প্রেক্ষাপটে হামলার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এবারের এই বিক্ষোভের সময়েই সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ওই বিপ্লবের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ নেতার মাধ্যমে দেশটিতে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে পারমাণবিক চুক্তি না হলে তিনি ইরানে হামলা চালাতে পারেন। তবে বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোর্ট ব্র্যাগে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, হামলা এড়াতে ইরানের উচিত "আমাদের এমন একটি চুক্তি দেওয়া, যা প্রথমবারেই তাদের দেওয়া উচিত ছিল।"

নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরকার জোর দিয়ে বলছে যে, তেহরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হেজবুল্লাহ কিংবা হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

ইরান এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত দিয়েছে যে দেশটির ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কিছুটা সীমিত করতে প্রস্তুত।

তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, তারা "অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না।"

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বারাক ওবামা আমলে ইরানের সাথে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে চাপে ফেলে।

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে একটি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করে, যা ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর আগে পর্যন্ত চলছিল।