সারসের পিঠে জিপিএস ট্র্যাকার বেঁধে হাজার ডলার গচ্চা দিলো দাতব্য সংস্থা

ইউরোপে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে সাদা সারস

ছবির উৎস, CHRISTINE JUNG/BIA/MINDEN PICTURES

ছবির ক্যাপশান, ইউরোপে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে সাদা সারস
Published

পরিযায়ী এক সারস পাখির পিঠে বেঁধে দেয়া জিপিএস ট্র্যাকার হারিয়ে যাবার পর, বিপুল অর্থের ফোনবিল গচ্চা দিতে হচ্ছে পোল্যান্ডের এক দাতব্য সংস্থাকে।

রেডিও পোল্যান্ডের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইকোলজিক গ্রুপ গত বছর পরিযায়ী পাখিটির পিঠে ঐ জিপিএস ট্র্যাকার বসিয়ে দেয়।

উদ্দেশ্য, সাদা সারসটি শীত মৌসুমে যখন ভিনদেশে পাড়ি জমায় সেসময় সে কত দূর গেলো এবং ঐ সময়ে তার প্রাত্যহিক জীবন সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া, যা পরবর্তীতে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।

এরপর পোল্যান্ড থেকে সারস পাখিটি ছয় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবার পর জিপিএস ট্র্যাকারটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আরো পড়তে পারেন:

জিপিএস ট্র্যাকারের ব্যবহার পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে

ছবির উৎস, বিবিসি

ছবির ক্যাপশান, জিপিএস ট্র্যাকারের ব্যবহার পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে

পরে ট্র্যাকারটি সুদানের নীল নদের উপত্যকায় পাওয়া যায়।

ইকোলজিক জানিয়েছে, সুদানে কেউ ট্র্যাকারটি খুঁজে পায়। এরপর ট্র্যাকারের ভেতর থেকে সিম কার্ডটি বের করে নিজেদের ফোনে ঢুকিয়ে কুড়ি ঘণ্টার বেশি কথা বলে।

এরপরই দাতব্য সংস্থাটির নামে দশ হাজার পোলিশ জালোটি বা দুই হাজার সাতশো মার্কিন ডলারের ফোনবিল আসে। যা অতি সত্ত্বর প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করতে হবে।

সারসের অবস্থান শনাক্তকরণের জন্য জিপিএস বেঁধে দেয়ার এই উপায় পরিবেশ গবেষণা এবং পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে বেশ কার্যকরী উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

মাইক্রো জিপিএস ট্র্যাকারের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পাখির অভ্যাস, সামাজিক আচার আচরণ, আর ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পান।

যদিও সারসের এই প্রজাতিটি এখন ঝুঁকির মধ্যে আছে এমন নয়, কিন্তু শিল্পায়ন এবং জলাশয় কমে যাবার ফলে গত পঞ্চাশ বছরে ইউরোপে এই পাখি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।