ব্রেক্সিট নিয়ে সমঝোতা, তবুও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বরিস জনসন (বাঁয়ে) এবং জ্যঁ-ক্লদ ইউংকার। পেছনে দাঁড়ানো মিশেল বার্নিয়ে।
ছবির ক্যাপশান, বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বরিস জনসন (বাঁয়ে) এবং জ্যঁ-ক্লদ ইউংকার। পেছনে দাঁড়ানো মিশেল বার্নিয়ে।
Published

ব্রিটেন কোন্ শর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হবে তার একটি বোঝাপড়া হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দু'জনেই ঘোষণা করেছেন যে এই প্রশ্নে একটি মীমাংসা চুক্তিতে পৌঁছানো গেছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্ট্যাটাস কি হবে, প্রধানত এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে মতভেদের কারণে ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটের প্রায় সাড়ে তিন বছর পরও এই বোঝাপড়া আটকে ছিল।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়।

মি. জনসন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ ইউংকার উভয়েই বলেছেন, এই সমঝোতা দু'পক্ষের জন্যেই 'ন্যায্য' হয়েছে।

এবং এর পর ব্রেক্সিট সময়সীমা আর বাড়ানোর কোন প্রয়োজন নেই বলে মি. ইউংকার মত প্রকাশ করেছেন।

যে আপোষরফা প্রধানমন্ত্রী জনসন করেছেন, তাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে।

তবে সেটা আদৌ ঘটবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ক্ষমতা হাতে নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বার বার বলেছেন, ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যে কোনও মূল্যেই তিনি ব্রিটেনকে ইইউ জোট থেকে বের করে আনবেন।

ব্রিটেনের এক বিরাট জনগোষ্ঠী ব্রেক্সিটের বিরোধী।
ছবির ক্যাপশান, ব্রিটেনের এক বিরাট জনগোষ্ঠী ব্রেক্সিটের বিরোধী।

সম্পর্কিত খবর:

সেটা তিনি পারবেন কি না - তা নিয়ে অনেক সন্দেহ থাকলেও মি. জনসন বলছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি একটি বোঝাপড়া চূড়ান্ত করেছেন যার ভেতর দিয়ে, তার ভাষায়, ব্রিটেন তার নিজের ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও ঘোষণা করা হয়েছে ব্রিটেনের সাথে একটি বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়েছে।

ইইউ-এর প্রধান মীমাংসাকারী মিশেল বার্নিয়ে বলছেন, "ব্রিটিশ সরকারের সাথে আমরা একটা চুক্তিতে পৌঁছেছি যার মাধ্যমে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সুশৃঙ্খলভাবে বেরিয়ে যেতে পারবে।"

"ভবিষ্যতে ব্রিটেনের সাথে এই জোটের সম্পর্ক কী হবে, তার একটি কাঠামো নিয়েও বোঝাপড়া হয়েছে।"

ব্রেক্সিটের পর উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্ট্যাটাস কী হবে, আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সাথে সীমান্তের চরিত্র কী হবে - প্রধানত এই ইস্যুতেই বছরের পর বছর ঐক্যমত্য হচ্ছিল না।

জানা গেছে, বরিস জনসন শেষ পর্যন্ত কিছু আপোষ করেছেন।

মিশেল বার্নিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নতুন এই চুক্তির ফলে ব্রেক্সিটের পরও উত্তর আয়ারল্যান্ডে ইইউ'র অনেক নীতিমালা অব্যাহত থাকবে।

উত্তর আয়ারল্যান্ড ব্রিটিশ কাস্টমস এলাকার মধ্যে থাকলেও এটি ইইউ'র অভিন্ন বাজারের প্রবেশ পথ হবে।

ওয়েস্টমিনস্টারে উড়ছে ইইউ পতাকা। তবে এটি কতদিন উড়বে তা নিয়ে সন্দেহ এখনও রয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, ওয়েস্টমিনস্টারে উড়ছে ইইউ পতাকা। তবে এটি কতদিন উড়বে তা নিয়ে সন্দেহ এখনও রয়েছে।

তবে, একই সাথে ইইউ মেনে নিয়েছে যে এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা নিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রাদেশিক পার্লামেন্ট প্রতি চার বছর পরপর ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

বৃহস্পতিবার থেকে ইইউ জোটের যে শীর্ষ বৈঠক ব্রাসেলসে শুরু হয়েছে সেখানে এই চুক্তি অনুমোদন হবে।

তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি এই চুক্তি পাশ করাতে পারবেন কিনা - তা নিয়ে সন্দেহ এখনও যায়নি।

বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রটেস্টান্ট দল ডিইউপি কোনভাবেই চায়না না যে ব্রেক্সিটের পর তাদের এই অঞ্চলের ওপর ইইউ-এর নীতিমালা অব্যাহত থাকুক।

এছাড়া, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশাল সংখ্যক এমপি ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিদায়ের ঘোর বিরোধী।

আরো পড়তে পারেন: