বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আভাস, কেন আবার সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ঢাকার ইস্কাটনের বাসিন্দা ও একজন বেসরকারি চাকরিজীবী ইয়াসমিন ইসলাম মাসের খরচের হিসাব মিলাতে গিয়ে দেখেন, নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুর দামই এখন বাড়তি। এর মাঝে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ার খবর তাকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
"এমনিতেই মাস শেষে নানা ধরনের বিল দিতে শেষ আমরা। এখন যদি আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ে, তাহলে এই হিসাবের টাকায় সংসার চালানো আরও কঠিন হবে," বলছিলেন তিনি।
শুধু মিজ ইসলাম নন, বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির খবরে অনেক পরিবারই চিন্তিত।
যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়-ও, তাহলে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিবে।
একই সঙ্গে সরকার আবারও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ফিরিয়ে এনেছে।
অর্থাৎ, সরকার একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনছে, অন্যদিকে প্রস্তুতি নিচ্ছে দাম বাড়ানোর। এর পেছনে কারণ কী? এই দাম বাড়ানোর প্রভাবই বা কী হবে?
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
সাতটার মধ্যে দোকান বন্ধের আদেশ কেন?
সন্ধ্যা ৭টার মাঝে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার পাশাপাশি সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতিও ওই একই সময়ের মাঝেই বন্ধ রাখতে বলেছে সরকার। দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য।
এর আগে, গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। সরকার তখন অফিসের সময়ও এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত করেছিলো।
সেইসাথে, বিয়ে বা উৎসবে কোনো আলোকসজ্জা করতেও নিষেধ করা হয়েছিলো তখন।
সরকারের পক্ষ থেকে তখন আরও বলা হয়েছিলো, পরবর্তী তিন মাস সরকারি ব্যয় কমানো এবং এ সময়ে কোনো নতুন যানবাহন (গাড়ি, জলযান, আকাশযান) ও কম্পিউটার সামগ্রী কেনা হবে না এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো হবে।
তবে মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে গত ১০ই মে থেকে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
কিন্তু সোমবার এক নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পহেলা জুন থেকে আবারও আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

ছবির উৎস, NurPhoto
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশে এই প্রথম নেওয়া হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। এর আগেও একাধিকবার নানামুখী সংকটে এমন পথে হাঁটতে হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে, ২০২২ সালের জুনেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত আটটার পর থেকে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলো সেই সরকার।
মূলত, গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে, সন্ধ্যার পর বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহার একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি হয়।
এই চাপ কমাতেই এই ধরনের সাশ্রয়ী ব্যবস্থাগুলো আবার চালু করা হচ্ছে।
দোকান-পাট আগে বন্ধ করার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা প্রসঙ্গে গত এপ্রিলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, "এতে কিছু জ্বালানি সাশ্রয় হবে। কারণ আমরা কখনো কখনো তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করি, তাই ফার্নেস অয়েল বাঁচবে।"
অর্থাৎ, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় মূলত গ্যাস, কয়লা, তেল (ফার্নেস অয়েল, ডিজেল) ইত্যাদি দিয়ে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ সবচেয়ে সস্তা। আর তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ সবচেয়ে ব্যয়বহুলগুলোর একটি, কারণ তেল আমদানি করতে হয় এবং দামও বেশি।
তাই, দিনের বেলা বা সন্ধ্যায় যখন বিদ্যুতের চাহিদা খুব বেড়ে যায়, তখন শুধু গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র দিয়ে চাহিদা মেটানো যায় না। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালাতে হয়।

ছবির উৎস, ROSATOM
বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা এবং ঘাটতি কত?
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট।
তবে বাস্তবে চাহিদা এর চেয়ে অনেক কম থাকে, বিবিসি বাংলাকে বলেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।
তার ভাষায়, "বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণত ১৭ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে থাকে। তবে এটি আবহাওয়া, মৌসুম এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে।"
তবে বর্তমানে দেশে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
"আমরা চাইলে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে। কিন্তু আর্থিক কারণে সব সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে না। কারণ তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালাতে অনেক বেশি খরচ হয়। সেটা আমাদের জন্য বাস্তবসম্মত না," বলেন তিনি।
তিনি জানান, বিদ্যুতের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক কেন্দ্র বেশি চালাতে হলে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়বে।

ছবির উৎস, Getty Images
সামগ্রিক কারণে ঘাটতির পরিমাণও একেক দিন একেক রকম হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো সময় আবহাওয়াগত কারণে, বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কারণে বন্ধ থাকলেও সাময়িকভাবে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
যদিও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রকৃত চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তার ধারণা, বর্তমানে দেশে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি ঘাটতি থাকতে পারে। তবে পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান ঘাটতি কয়েকশ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।
কারণ, গত ২০শে মে রাত ৯টায় দেশে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এটি হলো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওই সময়ে দেশব্যাপী মোট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট, ফলে ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।
এম শামসুল আলম বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, সেটি দিয়ে সামগ্রিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না।
"একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে ১৭ হাজার বা ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সেটি দিয়ে প্রকৃত চাহিদা কত ছিল এবং কতটা সরবরাহ করা গেছে, সেই পুরো চিত্র পাওয়া যায় না," যোগ করেন তিনি।

ছবির উৎস, Getty Images
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা কেন ভাবছে সরকার?
বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পর জুনের শুরুতে আবারও পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিবিসি বাংলাকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)।
তবে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের বড় একটি অংশ বেসরকারি খাত থেকে কিনতে হয়। কিন্তু যে দামে সরকার বিদ্যুৎ কিনছে এবং যে দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
"আমরা যে রেটে বিদ্যুৎ কিনছি এবং যে রেটে বিক্রি করছি, এর মধ্যে বড় একটা গ্যাপ আছে। সেই গ্যাপ পূরণ করতে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে," বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির জন্য বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হয়, প্রকৃত ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে সেই সীমাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
"বিদ্যুৎ বিভাগ যখন এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে, তখন আমরা একটাই কথা বলেছি, লাইফলাইন গ্রাহক বা ক্ষুদ্র গ্রাহকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আমাদের এ ধরনের গ্রাহক ৬০ শতাংশেরও বেশি। একান্ত সাধারণ মানুষের ওপর যেন বাড়তি চাপ না পড়ে, সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আমরা আমাদের দিক থেকে জানিয়েছি," বলেন প্রতিমন্ত্রী।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের মতে, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের নীতিগত ও কাঠামোগত সমস্যা দায়ী।
তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি" আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের অনেক প্রচলিত মানদণ্ড ও জবাবদিহির প্রক্রিয়া স্থগিত করে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এর ফলে এই খাতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
"এই ব্যবস্থায় ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে ভর্তুকি দিয়েও সরকার তা সামাল দিতে পারছে না। ফলে সেই ঘাটতি পূরণের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে," বলেন তিনি।

ছবির উৎস, Reuters
ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম আশঙ্কা করেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে এর প্রভাব কেবল বিদ্যুৎ বিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
"বিদ্যুতের দাম বাড়লে পণ্য ও সেবা উৎপাদনের খরচও বাড়বে। এর ফলে বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে," বলেন তিনি।
এদিকে, বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দোকানপাটের সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি রয়েছে ব্যবসায়ীদের। তাদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যার পরই মানুষের কেনাকাটার প্রধান সময়। তাই আগেভাগে দোকান বন্ধ করলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "কেউ যদি মনে করে বিদেশের মতো সন্ধ্যায় সব বন্ধ করে দিলেই হবে, তাহলে হবে না। শীতপ্রধান দেশের সঙ্গে আমাদের বাস্তবতা এক নয়। দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর), সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক (থাইল্যান্ডের রাজধানী) কিংবা চীনের মতো দেশেও সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ হয় না। তারা দেরিতে খোলে, আবার দেরিতেই বন্ধ করে," বলেন তিনি।
"এপ্রিলে জ্বালানি সংকটের সময় আমরা ভেবেছিলাম সহযোগিতা করি। কিন্তু এখন যদি সেই সংকট না-ই থাকে, তাহলে দোকানপাট আগেভাগে বন্ধ করার প্রয়োজন কেন?" আর, এখন তো সন্ধ্যা সাতটার সময়ই আজান হয়। ওই সময় নামাজ পড়বো, নাকি দোকান বন্ধ করবো?"
মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দোকান মালিক সমিতি শীঘ্রই সরকারের কাছে আবেদন করবে, যাতে অন্তত রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।








