ভারত থেকে কোন কোন পথ দিয়ে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা হয়?

কৈলাস মানস সরোবর

ছবির উৎস, Krishna Adhikari

ছবির ক্যাপশান, কৈলাস মানস সরোবরে প্রতিবছর বহু পর্যটক যান
    • Author, রূপসা সেনগুপ্ত
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

"কৈলাস পর্বতের এক ঝলক দেখার পর মনে হয়েছিল আর সত্যিই কিছু চাওয়ার থাকতে পারে না। সেই অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না," বলছিলেন কলকাতার নিউটাউনের বাসিন্দা তাপস চ্যাটার্জী।

ভারত সরকারের উদ্যোগে চলতি বছরের কৈলাস ও মানস সরোবর যাত্রা সেরে ফিরেছেন তিনি।

নাথু লা পাস হয়ে মানস সরোবর গিয়েছিলেন, সঙ্গে ছিলেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৫ থেকে ৭০ বছর বয়সের যাত্রীরা। যাদের সকলের একটাই গন্তব্য- কৈলাস মানস সরোবর

ইন্ডিয়ান অয়েলের অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল।

তিনি বলছিলেন, "৪০ বছর আগে আমার অফিসের একজন সিনিয়রের তোলা ছবিতে কৈলাস পর্বতের ছবি দেখে ঠিক করেছিলাম আমিও যাব। ২০১৭ সালে অবসরে যাওয়ার পর নানা কারণে যাওয়া হয়নি। এবছর সুযোগটা মিস করতে চাইনি।"

দুবার মানস সরোবর যাত্রা করেছেন রেলের কলকাতার সুমিত সাহা। প্রথমবার ২০১০ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৫ সালে, এই বিষয়ে বইও লিখেছেন তিনি।

সরকারি উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা এই যাত্রায় সামিল হন, তাদের প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি বিষয়ে ব্রিফ করেন তিনি।

তার কথায়, "প্রতিবছর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কৈলাস- মানস সরোবর যাত্রা করেন। সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে এই যাত্রা সম্ভব। তবে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার সঙ্গে অন্যান্য সফরের পার্থক্য রয়েছে। মানস সরোবর যাত্রার সঙ্গে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক (তৃপ্তি) দুই দিকই জড়িয়ে রয়েছে।"

কৈলাস পর্বত এবং মানস সরোবর হ্রদ হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ও তিব্বতের প্রাচীন বন ধর্মের অনুসারীদের কাছে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ মানস সরোবর যাত্রা করেন। বিদেশি পর্যটকরাও আসেন।

নেপালে ২৬শে অগাস্টে ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার পর এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না সেই ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে যাওয়া তীর্থযাত্রী রয়েছেন।

জানা গেছে, এরা বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে মানস সরোবর যাত্রা করছিলেন।

কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার পথ
ছবির ক্যাপশান, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার পথ

যাত্রাপথ

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ভারত সরকার প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দু'টো ভিন্ন পথে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন করে। লিপুলেখ পাস (উত্তরাখণ্ড) হয়ে, কিংবা নাথু লা পাস (সিকিম) হয়ে। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলো লিপুলেখ পাস এবং নাথু লা থেকে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন করে না।

লিপুলেখ পাস হয়ে গেলে প্রায় ২০০ কিলোমিটার ট্রেকিং করতে হয়, অন্যদিকে নাথু লা পাস হয়ে গেলে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার ট্রেকিং করতে হয়।

বেসরকারি ট্যুর অপারেটররা অন্য একটা পথ দিয়ে যাত্রীদের নিয়ে যায় যা নেপালের কাঠমান্ডু থেকে নেপালগঞ্জ হয়ে সড়কপথে তিব্বতে যায়। বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের পরিচালিত এই সফরে সড়কপথ বা আকাশ পথে ছোট ফ্লাইট ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়।

বেসরকারি ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং এবং নেপালের রাসুয়া হয়ে সড়কপথে যেতে প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। কাঠমান্ডু থেকে সড়কপথে সীমান্ত চৌকি পর্যন্ত যাওয়া যায়। তারপর সেখান থেকে তিব্বতের দারচেন। এই দারচেন থেকেই ট্রেকিং শুরু হয়।

বেসরকারি সংস্থা 'ডলফিন গ্লোবাল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস'- এর ট্যুর ম্যানেজার উজ্জ্বল পালের কথায়, "নেপালগঞ্জ হয়ে যেতে আনুমানিক ১০ দিন সময় লাগে তবে আবহাওয়া খারাপ বা অন্যান্য কারণে ফ্লাই না করা গেলে ১২-১৩ দিন সময় লাগতে পারে। আমরা লক্ষ্ণৌ থেকে নেপালগঞ্জ হয়ে সড়কপথে পর্যটকদের নিয়ে যাই। এবছরও আমাদের দু'টো টিম গিয়েছিল। লাস্ট টিম ১৩ই অগাস্ট ফিরেছে।"

দ্বিতীয় রুট হলো আকাশপথে নেপালগঞ্জ এবং সিমিকোট-হিলসা হয়ে। প্রথমে কাঠমান্ডু থেকে নেপালগঞ্জ যেতে হয়, তারপর একটা ছোট বিমানে চেপে সিমিকোট। সীমান্তে অবস্থিত হিলসায় পৌঁছাতে হলে হেলিকপ্টারে চাপতে হয়। এখান থেকে পুরং ও কৈলাস পর্বতের দূরত্ব সড়কপথে কম।

পর্যটকদের পাসপোর্ট এবং বিশেষ অনুমতিপত্র, যেমন - চীনের গ্রুপ ভিসা ও তিব্বত ভ্রমণ অনুমতিপত্রের প্রয়োজন। প্রতি বছর মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই পথগুলো দিয়ে যাতায়াত করেন।

"কাঠমান্ডু হয়ে সড়কপথে যেতে গেলে যে আশঙ্কা থেকে যায় তা হলো ভূমিধসের। এই মরশুমে যা প্রায়শই দেখা যায়। তাই আমরা নেপালগঞ্জের রুটটাই ব্যবহার করি," বলছিলেন মি. পাল।

তবে কিছু বেসরকারি সংস্থা কাঠমান্ডুর রুটি বেছে নেন।

পোর্টারের সঙ্গে তাপস চ্যাটার্জী (কালো জ্যাকেট), কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার সময়ে তোলা ছবি

ছবির উৎস, Tapas Chatterjee

ছবির ক্যাপশান, তাপস চ্যাটার্জী (কালো জ্যাকেট) জানিয়েছেন কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল

রাসুয়ার রুট কেন জনপ্রিয়?

কাঠমান্ডুর রুটটা রাসুয়া জেলার মধ্য দিয়ে নেপাল-চীন সীমান্তে অবস্থিত রাসুয়াগড়ি সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে শেষ হয়। রাসুয়া এবং সেখানকার রাসুয়াগড়ি সীমান্ত চৌকি নেপাল থেকে তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবরে পৌঁছানোর প্রধান প্রবেশদ্বার। বুধবারের ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যায় এই এলাকাতেই ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে।

মানস সরোবরের কথা বলতে গিয়ে রাসুয়ার প্রসঙ্গই বারেবারে উঠে এসেছে।

সুমিত সাহা বলেছেন, "ওই অঞ্চলে বুধবারের যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে তা ভয়ঙ্কর। ওই সময়ে সেখানে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।"

এখানে সীমান্ত পার হওয়ার পর রুটটা সরাসরি তিব্বতের জিরং বন্দরের দিকে চলে গিয়েছে। এরপর ক্রমে কৈলাস মানস সরোবরের দিকে যাত্রা এগোয়।

কাঠমান্ডু থেকে রাসুয়াগড়ি পৌঁছাতে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। এর জন্য চীনা গ্রুপ ভিসা এবং তিব্বত ভ্রমণের অনুমতিপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

সাধারণত, রাসুয়াগড়িতে চীনা গ্রুপ ভিসা এবং তিব্বত ভ্রমণের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ সেগুলো আগেই থাকে আর প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি হওয়ার পরই যাত্রীরা কাঠমান্ডু থেকে সফর শুরু করেন।

চলতি বছরে 'ডলফিন গ্লোবাল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস'-এর তরফে আয়োজিত কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার ছবি

ছবির উৎস, Dolphin Global Tours & Travels

ছবির ক্যাপশান, চলতি বছরে 'ডলফিন গ্লোবাল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস'-এর তরফে আয়োজিত কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার ছবি

কেন এই পথ দিয়ে সফর করছেন অনেকে?

সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি উদ্যোগে এই পথ দিয়ে যাওয়া যাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে।

নেপালের পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাসুয়াগড়ি সীমান্ত চৌকি দিয়ে যাতায়াত করেছেন এমন যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৫২৩ জন। এই রুট বিদেশি ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয়, কারণ ভারত সরকার পরিচালিত নাথুলা পাস এবং লিপুলেখ রুট শুধু ভারতীয় নাগরিকদের জন্য।

১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর, এই যাত্রা প্রায় দুই দশকের জন্য স্থগিত ছিল। ১৯৮১ সালে তা আবার শুরু হয়। এরপর ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা এবং কোভিড-১৯ মহামারির কারণ এই যাত্রা আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালে মানস সরোবর আবার শুরু হয়।

জানা গেছে, ১৯৮১ সালে ভারত এবং চীনের মাঝে একটা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হয় যার আওতায় ভারতীয়রা সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানস সরোবর যাত্রা করতে পারেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা বিশেষ ডেস্ক তৈরি করা হয় যেখানে আবেদন ঝাড়াই-বাছাই করে, লটারি ও মেডিকেল টেস্ট করে যাত্রীদের সফরের অনুমতি দেওয়া হতো। বাছাই করা কিছু যাত্রীই যেতে পারতেন। লিপুলেখ আর নাথুলা - এই দু'টো রুট ছিল।

কিন্তু ১৯৯৮ সালে ভয়াবহ ভূমিধসে মানস সরোবর-গামী প্রায় ৬০জন যাত্রীর মৃত্যু হয়, তার মধ্যে নৃত্যশিল্পী প্রতিমা বেদীও ছিলেন। সেই সময়ে তারা পিথোরাগড়ে ছিলেন। তারপরেও এই রুট চলছিল।

কোভিডের পর যখন আবার এই যাত্রা চালু হয়, তখন দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পর অল্টারনেটিভ রুট ব্যবহারের সম্মতি দেয় চীন, যাতে বেসরকারি অপারেটররাও পর্যটকদের নিয়ে যেতে পারেন। নেপাল দিয়ে যাওয়া এরকম একটা রুটই এখন এই আকস্মিক বন্যার কারণে খবরের শিরোনামে।

নেপালগঞ্জ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত ছোট ফ্লাইট ও হেলিকপ্টার

ছবির উৎস, Krishna Adhikari

ছবির ক্যাপশান, অনেক যাত্রী নেপালগঞ্জ থেকে সিমিকোট পর্যন্ত ছোট ফ্লাইটে যান, সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়

এক্ষেত্রে খরচটাও একটা বিষয়।

"প্রাইভেট এজেন্সির সঙ্গে গেলে খরচও তুলনামূলকভাবে কম। ইদানিং বেসরকারি উদ্যোগে এভাবে সফররতদের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারি উদ্যোগে যাত্রার খরচ বেশি কিন্তু অনেক সুবিধাও রয়েছে। সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা থাকেন। বিপদে পড়লে বা কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাছাড়া এই যাত্রার সমস্ত দায়িত্ব সরকারের," ব্যাখ্যা করেছেন সুমিত সাহা।

"সরকারি উদ্যোগে গেলে নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়, নিয়ম মেনে অন্যান্য বিষয়েও খেয়াল রাখা হয়," বলেছেন তিনি।

তবে সেক্ষেত্রে খরচ বেশি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, ২০২৫ সালে লিপুলেখ পাস (উত্তরাখণ্ড) দিয়ে ভ্রমণের আনুমানিক খরচ ছিল এক লাখ ৭৪ হাজার ভারতীয় টাকা। নাথু লা পাস দিয়ে ভ্রমণের আনুমানিক খরচ ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

তাপস চ্যাটার্জী জানিয়েছেন সরকারি উদ্যোগে যাত্রায় দিল্লি সফর, মেডিকেল টেস্ট, সফরকালে পোর্টারের খরচ, চীনে প্রবেশের জন্য কর্তৃপক্ষকে যে অর্থ দিতে হয়, সব মিলিয়ে আনুমানিক তার চার লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি উদ্যোগে এই খরচ "সব মিলিয়ে আনুমানিক দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা লাগে। কেউ নিতে চাইলে আলাদাভাবে পোর্টারের খরচ পড়ে ৬০-৭০ হাজার টাকা," বলেছেন মি. পাল।


কৈলাস মানস সরোবর দর্শনে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ

ছবির উৎস, Krishna Adhikari

ছবির ক্যাপশান, কৈলাস মানস সরোবর দর্শনে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ

'মানস সরোবরের প্রতি টান দীর্ঘদিনের'

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বেসরকারি উদ্যোগে এইভাবে মানস সরোবর যাত্রা করেন।

"আসলে কৈলাস মানস সরোবরে সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। বহু মানুষ শুধুমাত্র এই যাত্রার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমান। আমাদের কাছে মূলত ৫০ থেকে ৬০-৬৫ বছরের মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ আসেন যাদের কাছে মানস সরোবরে যাওয়াটা একটা স্বপ্ন," বলেছেন কলকাতার একটা ট্যুর এজেন্সির ম্যানেজার।

ভারতের বিভিন্ন শহরে তাদের অফিস রয়েছে। বহু বাঙালিও এই তালিকায় রয়েছেন।

সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত বলছিলেন, "মানস সরোবরের প্রতি মানুষের টান দীর্ঘদিনের। আমি ছেলেবেলা থেকে অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি- কৈলাস যাব, মানস সরোবরে যাব। বহু বাঙালি মানস সরোবর যান। এখন অনেক সুযোগ-সুবিধা হয়েছে, এক সময়ে মানুষ অনেক কষ্ট করেই যেতেন। কারণ তারা প্রকৃতির মধ্যে থাকতে এবং প্রকৃতির সৃষ্টিকে চাক্ষুষ করতে চান।"

"আমি নিজে কখনো যাইনি, কিন্তু বহু লেখা পড়ে এবং ছবি দেখে যা বুঝেছি তাতে মানস সরোবরের মাহাত্ম্য যেমন রয়েছে তেমনই নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যও রয়েছে। এর অপরূপ সৌন্দর্য মানুষকে আজন্মকাল ধরে আকর্ষণ করে গিয়েছে। রূপ এবং মাহাত্ম্য এই দুই মিলিয়েই মানুষ অনুভব করতে চায়। তাছাড়া বাঙ্গালিরা বরাবরই ভ্রমণপিপাসু। উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বা কালকূটের হাত ধরে তারই ঝলক বাংলা সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে।"

একই কথা জানিয়েছেন তাপস চ্যাটার্জী। তার কথায়, "যাত্রা সেরে ফেরার পর উত্তর ভারত থেকে আসা সঙ্গীদের অনেককেই স্বাগত জানাতে এসেছিলেন তাদের এলাকার বহু মানুষ। তাদের আবেগ মন ছুঁয়ে যায়।"

ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা করেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা করেন

সরকারি নিয়ম

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার জন্য নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছে। এর প্রধান শর্ত হলো, তীর্থযাত্রীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে, ভারতীয় পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ পহেলা সেপ্টেম্বর তারিখে কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে।

চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি তারিখে তার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং অনধিক ৭০ বছর হতে হবে। এই যাত্রার জন্য শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাও আবশ্যক।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই)। নির্দিষ্ট বিএমআই থাকলে তবেই অনুমতি মিলবে।

এই যাত্রার জন্য অনলাইনে আবেদন সফল হওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লটারির মাধ্যমে তীর্থযাত্রীদের নির্বাচন করে। লটারির মাধ্যমে যাত্রীদের রুট ও ব্যাচ বরাদ্দ করা হয়।

একসঙ্গে যাত্রা করা এবং ফিরে আসা বাধ্যতামূলক। যাত্রা শুরু হয় দিল্লি থেকে।

যাত্রা শুরুর আগে অন্যান্য নথির সঙ্গে, ১০০ টাকার নোটারি করা ক্ষতিপূরণ বন্ড মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়ার জন্য হলফনামা এবং সফরকালে মৃত্যু হলে চীনের ভূখণ্ডে মরদেহ দাহ করার জন্য সম্মতিপত্রও জমা দিতে হবে।

এই নথিগুলোর কোনোটাতে ঘাটতি পাওয়া গেলে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয় না।